কণ্ঠস্বর ভেঙে গেলে কী করণীয়?

একদিন ঘুম থেকে জেগে দেখেন কণ্ঠস্বর ভেঙে গেছে বা বসে গেছে। গলার আওয়াজ বিদঘুটে। এমন পরিস্থিতি বেশ অস্বস্তিকর। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এই সমস্যা। চার থেকে ছয় সপ্তাহেও সমস্যা দূর না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ স্বরযন্ত্রের প্রদাহ। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে যেকোনো বয়সের মানুষেরই এ সমস্যা হতে পারে। সাধারণত শীতের এই সময়ে এ ধরনের প্রদাহই বেশি দায়ী। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই এটি ভালো হয়ে যায়।
আবার তীব্র চিৎকার বা অতিরিক্ত উচ্চ স্বরে কথা বলার কারণে স্বরযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হতে পারে। বিশেষ কিছু পেশাজীবী, যেমন: শিক্ষক, কণ্ঠশিল্পী, রাজনৈতিক বক্তা বা ফেরিওয়ালারা এমন সমস্যায় পড়ে থাকেন। এসব পেশাজীবীর ভোকাল কর্ডে ছোট নডিউলও তৈরি হতে পারে, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং চিন্তার বিষয়।
নাকে অ্যালার্জির কারণে প্রদাহ হলেও অনেক সময় কণ্ঠস্বর ভেঙে যায়। এ ছাড়া বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্বরযন্ত্রের ক্যানসারের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। স্বরযন্ত্রে যক্ষ্মার সংক্রমণ, থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো অস্ত্রোপচারের পরে বা থাইরয়েড ক্যানসারের কারণেও কণ্ঠস্বর ভেঙে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা হতে পারে।
কী করণীয়?
* কণ্ঠস্বর ভেঙে গেলে স্বরের বিশ্রাম প্রয়োজন।
* প্রচুর পানি পান করে গলা আর্দ্র রাখতে হবে।
* দিনে তিনবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ধরে লবণ-পানি দিয়ে গার্গল করা যেতে পারে।
* গরম পানির ধোঁয়া মুখ দিয়ে টেনে নিতে পারেন। সারা দিনে তিনবার ১৫ মিনিট করে এভাবে গরম ভাপ নেওয়া যেতে পারে।
* ঠান্ডা হাওয়া ও ধুলাবালু এড়িয়ে চলুন।
তবে তীব্র গলাব্যথা, খুব কাশি বা ঘন কফ বের হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আর চার থেকে ছয় সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া সব বয়সীদেরই ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
ডা. শেখ নুরুল ফাত্তাহ
সহযোগী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল