ইউরোপে সাইকেলের জন্যও আছে আলাদা রাস্তা

2017-08-30 by  

 

সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা রাস্তাজার্মানিতে গাঁয়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে সাইকেল চালানোর মজাই আলাদা।

কয়দিন আগে দেখলাম বাংলাদেশ থেকে কেউ একজন ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাজপথে একসঙ্গে চলছে নৌকা, গাড়ি আর রিকশা।
ছবির সঙ্গে মজা করে ভদ্রলোক দুই লাইনের একটি কবিতাও লিখেছেন—এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, নৌকা করে চলো তুমি রিকশা করে আমি।
দুর্যোগ কিংবা দুর্যোগ ছাড়া দেশে সবার রাস্তা এক হলেও জার্মান দেশে কিংবা ইউরোপে আছে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা। এখানে গাড়ি, সাইকেল, ট্রেন কিংবা মানুষেরও আছে আলাদা-আলাদা রাস্তা। সবাই আপন গতিতে নিজ নিজ রাস্তাতেই করেন চলাফেরা। কেউ কারও রাস্তায় চলতে এখানে মানা। এখানে যোগাযোগের এতই সুব্যবস্থা।সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা রাস্তা
আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগে সাইকেলের রাস্তা। তাও আবার দুই লেন। এক লাইনে যাওয়া, আরেক লাইনে আসা।
যানবাহন বলতে ইউরোপে সাইকেলকেও বোঝায়। সাইকেলেও থাকতে হবে সামনে পেছনে লাইট, ফার্স্ট গিয়ার, সেকেন্ড গিয়ার। আছে অটো গিয়ারও। অনেকে নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেটও পরেন।
মনের আনন্দে সাইকেল চালিয়ে আপনি চলে যেতে পারবেন গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে, কিংবা ভিন্ন কোনো দেশে। সাইকেলে করে যাতায়াতের আছে সেই সুব্যবস্থা।
হারিয়ে যাওয়ার নেই কোনো ভয়। লাল-সবুজ এই সাইকেলের রাস্তার মোড়ে-মোড়ে আছে দিক নির্দেশনা। আর যদি আপনার থাকে ব্যাটারি চালিত সাইকেল তাহলে তো আপনিই রাজা।সাইকেল ও পথচারীদের জন্য আলাদা লেন
ছুটিতে একবার আমি স্পেন দেশে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সাইকেলে করে যাতায়াতের আছে আরও উন্নত ব্যবস্থা। স্প্যানিশ ভাষায় সাইকেলকে বলা হয় বিসিকলেতা। আমি যে শহরে গিয়েছিলাম সেই শহরের নাম হলো মালাগা। শহর আর বাহন—এই দুই মিলে একসঙ্গে বলা হয় মালাগা বিসিকলেতা।
মালাগা পরিবহন কর্তৃপক্ষ রেখেছেন সাইকেলে করে যাতায়াতেরও সুব্যবস্থা। প্রতি এক কিলোমিটার অন্তর অন্তর আছে সাইকেল স্টেশন। চাবি মেরে করা যাবে সাইকেল পার্কিং। হাতে যদি থাকে সেই ডিজিটাল চাবি, চালানো যাবে যেকোনো সাইকেল!
১০ ইউরো সদস্য ফি, ৫ ইউরো চাবি ফি, মোট ১৫ ইউরো দিয়ে আমি পেয়ে গেলাম এক বছরের জন্য মালাগা সাইকেলের চাবি। যদিও আমার দরকার এক মাসের। তবুও সস্তা। দৈনিক সাইকেল ভাড়া নিলে গুনতে হতো ১০ ইউরো করে প্রতিদিন।লেখক
চাবির সঙ্গে তারা দিলেন মোবাইল অ্যাপ ফ্রি। অ্যাপের মাধ্যমে দেখা যাবে সাইকেল স্টেশন আর কত দূর বাকি। পার্কিং খালি আছে কিনা। প্রতিটি স্টেশনে মোট কতগুলো সাইকেল রাখার ব্যবস্থা আছে। কতগুলি সাইকেল এই মুহূর্তে পার্কিংয়ে আছে। চালানোর জন্য ওখানে সাইকেল অ্যাভেলেভল আছে কিনা ইত্যাদি।
সাইকেল চালাতে ভালোবাসেন জার্মানরা। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, শপিং কিংবা কর্মস্থলে অনেকেই যান সাইকেল চালিয়ে। কেউ বাড়ি থেকে সাইকেলে করে যান স্টেশনে। পরে বাস কিংবা ট্রেন করে যান গন্তব্যস্থলে। জার্মান দেশের যেকোনো স্টেশনের বাইরে অসংখ্য সাইকেল পার্কিং থাকতে দেখা যায়।
স্টেশনের কাছে গাড়ির যেভাবে পার্কিং থাকে, তেমনি সাইকেলেরও থাকে। আছে পেমেন্ট সাইকেল পার্কিংও। যেখানে সাইকেল পার্কিং করলে চুরি যাওয়ার নেই কোনো ভয়।সাইকেল স্ট্যান্ড
গরমকালে নিজের বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে অনেকেই সাইকেল চালিয়ে যান কর্মস্থলে। ছুটির দিনে আয়োজন করেই দল বেঁধে যান সাইকেল চালাতে। কিংবা পরিকল্পনা করেই যান সাইকেল প্রতিযোগিতায়। জার্মানরা মনে করেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সাইকেলে করে যাতায়াতের বিকল্প নেই।
সাইকেলে চালিয়ে পঞ্চাশ কিলোমিটার যাওয়ার ব্যক্তিগত রেকর্ড আছে আমার।
প্রিয়তমার সঙ্গে মিলতে ভারত থেকে সাইকেল চালিয়ে এক চিত্রশিল্পী এলেন ইউরোপে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সাইকেল চালিয়ে একদল মানুষ হজে গেলেন সৌদি আরবে।সাইকেল চালানোর রাস্তায় দিক নির্দেশনা